
পঞ্চগড়ে তরুণীসহ আটকের ঘটনায় স্থানীয়দের বিরুদ্ধে ‘মব’ সৃষ্টি, টাকা দাবি এবং ছবি তুলে সামাজিকভাবে হেয় করার অভিযোগ করেছেন সুগার মিল জামে মসজিদের খতিব শহিদুল ইসলাম। একই অভিযোগ করেছেন তার সঙ্গে থাকা ওই তরুণীও।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাগুরাপাড়া এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করে তারা এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তারা জানান, মঙ্গলবার সকালে ওই তরুণী তার স্বামীর জন্ম নিবন্ধনের কাগজপত্র ঠিক করতে ঢাকা থেকে পঞ্চগড়ে আসেন। ওই দিন কাগজপত্রের কাজ শেষ না হওয়ায় তিনি বাড়িতে না উঠে তার নানা শহিদুল ইসলামের সুগারমিল কলোনির কোয়ার্টারে উঠেন। পালিয়ে বিয়ে করায় বাড়িতে উঠতে না পারায় তিনি সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে জানান শহিদুল।
শহিদুলের দাবি, তিনি নিজে চিনিকল জামে মসজিদের ইমামের কক্ষে থাকেন। কলোনির কোয়ার্টারে কেউ না থাকায় ওই তরুণীর সঙ্গে তার মাদরাসার একটি শিশুকেও পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার রাতে তাদের খাবার দিতে গেলে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি পূর্বপরিকল্পিতভাবে সেখানে জড়ো হয়ে মব সৃষ্টি করেন। তাদের নিয়ে আপত্তিকর কথাবার্তা বলতে থাকেন৷ একপর্যায়ে তাদের কাছে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাদের জোর করে তাদের ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেতিবাচকভাবে প্রচার করা হয়েছে।
শহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে তাকে সামাজিকভাবে হেয় করা হয়েছে। অথচ ওই তরুণী তার স্বামীর কাগজপত্রের কাজ করতে এসে পরিস্থিতির কারণে আমার বাসায় উঠেন। আমি খাবার দিতে গেলে হঠাৎ কিছু মানুষ এসে উল্টোপাল্টা কথা ও ছবি তোলা শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা কয়েকজন আমাকে ছাদে নিয়ে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করে। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তারা আমার নাতনিকে জড়িয়ে নেতিবাচক কথা ছড়ায়। এতে আমার সম্মান নষ্ট হয়েছে। আমি এর ন্যায়বিচার চাই।
ওই তরুণী বলেন, পালিয়ে বিয়ে করায় আমি বাড়িতে যেতে পারি নি। আমার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলাম। রাতে নানা খাবার দিতে আসলে কিছু মানুষ এসে আপত্তিকর কথাবার্তা বলতে শুরু করে। তারা আমার ওড়না খুলে ফেলে। জোর করে আমার ছবি তোলে তা বেআইনীভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। আমি এখন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি।
এ ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবি করেছেন ওই তরুণীর স্বামীও।
গত মঙ্গলবার রাতে পঞ্চগড় সুগার মিল কলোনিতে সুগার মিল জামে মসজিদের খতিব শহিদুল ইসলাম ও এক তরুণীর সাথে আটক হয়েছেন এমন সংবাদ প্রকাশ হয়। স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে ওই খতিবকে ৫১ ধারায় আদালতে প্রেরণ করে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ। ওই মামলায় আদালতে জামিন পান তিনি।
পঞ্চগড় সদর থানার ওসি মোখলেছুর রহমান বলেন, স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। আমরা তাকে আদালতে সোপর্দ করি। তিনি মবের স্বীকার হয়েছেন এমন অভিযোগ আমরা পাইনি।অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
















